Tuesday, July 25, 2017

ভৌতিক প্রতিশোধ

কিছুক্ষন আগে মনোরমা এসে খিচুড়ি আর ইলিশ ভাঁজা রেখে গেছে ।এই বৃষ্টির দিনে রাতের বেলা বেলকনিতে বসে আছে  নিমাই আর সতেষ ।নিমাই কলকাতার ছেলে ,শ্যাম বর্ন হলেও সুশ্রী ।কদিন হলো চাকরি জন্য কলকাতা থেকে 25 ক্রোশ দূরে এক অজপাড়া গায়ে এসেছে সে।অন্যদিকে সতেষ এ গায়ের ছেলে।পেশাই প্রাইমারি শিক্ষক ।দুজনি একসাথে কোয়ার্টারের বিশাল ঘরে।ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছে মাঝে মাঝে বিদ্যুত্ চমকাচ্ছে আর সে আলোতে বিশাল মাঠটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।ইলিশ মাছের একটি টুকরো তুলে নিয়ে সতেষ বলল দাদা এই গ্রামে রাতেবের হওয়া আবার অ নিরাপদ  হয়ে গেছে ।নিমাই বলল কেন ।সতেষ খিচুড়ি মুখে পুড়ে বলল 1897  ভবেশ জমিদার বাড়ী ।সেখানে রাতের জলসা ঘরে তার কাজের মেয়েকে জলন্ত অবস্থায় বাইরে আসতে দেখা গেল।পিছনে আসছে জমিদারের বড় ছেলে ।সবাই দেখে ও না দেখার ভান করল ।জমিদার মৃদু হেসে ঘরে চলে গেলেন ।পরের দিন মেয়ে বাবা মা এসে লাশ আর কিছু টাকা নিয়ে গেল।সেই রাতে মেয়ের মা বাবা গলায় দড়ি দিলো । কিছু দিন পর গলায় ফাঁস দিয়ে জমিদার গিন্নি মারাযায় ।কিন্তু তার কোনও কারন খুঁজে পাওয়া যায় নি।পুকুরে স্নান করতে নেমে আর ওঠে নি জমিদারের ছোট ছেলে।রাতে মৃত কাজের মেয়েকে দেখে অচল হয়েছিলেন জমিদার ।বড় ছেলের মাথা পাওয়া গিয়েছিল চৌরাস্তার মোড়ে ।সেখানে এখন আগুনে ঝলসানো দেহটি মাথাহীন ভাবে ঘুরেবেরায়।হরিশ ছিল মেজ ছেলে বাবা মা মারা যাওয়ার পর দেখতে আসার  সাহস পাই নি।তবে আজকাল আবার সে মেয়েকে দেখা যায়। 

নিমাই চোখে অন্ধকার দেখছে।মনে হচ্ছে আগুনে জলছে সে।কারন সেই তো হরিশের একমাত্র বংশধর ।গায়ের কারোতো জানার কথা নয়।একি সতেষ কোথায় সামনে তো মনোরমা দাঁড়িয়ে ।সে হেসে  বলছে বড় কর্তা  দাদা আমায় শেষ বার খিচুড়ি আনতে বলেছিল।আমি আর জীবন নিয়ে আসতে পারিনি।তুমি ও পারবে না।


সরকারি কোয়ার্টার এ আগুনের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল ।পৌষ্ট মাস্টার নিমাই কে গ্রামের পুরনো জমিদার বাড়িতে মুখাগ্নি করা হলো।

সতেষ আর মনোরমা অস্তিত্বতের কথা গ্রামের কেউই জানতে পারেনি ।আজ মৃত্যু গুলো রহস্যময়








No comments:

Post a Comment

Group of FIFA World cup 2018

Group A : Russia Saudi Arabia Egypt Uruguay  Group B: Portugal Spain Morocco Iran  Group C: France Australia Pe...